ডিক্রী জারী সংক্রান্ত আইন

 

ডিক্রী জারী সংক্রান্ত আইন

[উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তসহ দেওয়ানী নিয়ম ও আদেশাবলী,  দেওয়ানী মামলা পরিচালনার ব্যবহারিক নির্দেশাবলীর সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী  ও অর্থঋণ জারী মামলা ও ফৌজদারী কার্যবিধির ক্রোক সংক্রান্ত ধারাসহ।]

 
 
 
 
ড. মো: শাহজাহান
এলএল.বি (অনার্স) এলএল.এম,পিএইচ.ডি  (ইউএসএ)
জেলা ও দায়রা জজ
সাবেক বিচারক, আপীল আদালত (ইউএন)
আন্তর্জাতিক বিচারক (ইউএন)
সভাপতি, বাংলাদেশ আইন সমিতি
সম্পাদক, বাংলাদেশ আইন সমিতি
মহাসচিব, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন
 
 
জয়নাল আবেদীন
এম.এ (ইংরেজী) এলএল. বি
যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ
 
 
 
  
 
 

ভূমিকা

 
Executable ডিক্রীর ক্ষেত্রে ডিক্রী জারী (Decree Execution) হলো মামলা নিষ্পতির মূল প্রাণ। যেকোন দেওয়ানী প্রকৃতির মামলার বিচার নিস্পত্তি হয় আদালত কর্তৃক ঘোষিত রায়ে ডিক্রী বা ডিস্মিস এর মাধ্যমে। যে সকল মামলার ডিক্রি শুধু রায় ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত নিস্পত্তি হয় না তা আদালতের পরবর্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে (জারী) চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি করতে হয়, সে সকল কার্যক্রমই ডিক্রী জারীর আওতাভুক্ত। যেমন কোন ব্যক্তি তার স্বত্ব দখলীয় জমি হতে বেদখল হলে বেআইনী দখলদারকে উচ্ছেদ পূর্বক তাতে ডিক্রীদারকে (বাদী) খাস দখল পেতে ডিক্রী জারী করতে হয়। সম্পত্তিতে বিভিন্ন ওয়ারেশ বা ক্রয় সূত্রে অংশীদারগণের মধ্যে স্বত্ব দখলীয় অংশ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে এবং আদালত প্রার্থীগণের অংশ মোতাবেক বাটোয়ারা ডিক্রী প্রদান করলে এবং পক্ষগণের মধ্য বণ্টন করে দিতে হলে উক্ত ডিক্রী জারীর মাধ্যমে সমাপ্ত হতে হয়। কেউ মানিস্যুট বা অর্থঋণ আদালতে মামলা করলে এবং ডিক্রী পেলে তা ডিক্রী জারী কার্যক্রমের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হয়। অর্থাৎ ডিক্রী পেলেও তা জারীর মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি না হলে ৬ মাস থেকে ২০/২৫ বছর মামলা চালিয়ে ডিক্রী পেলেও তা অর্থহীন হয়ে যায়। অর্থাৎ শুধু ঘোষণামুলক ডিক্রী ছাড়া সকল Executable ডিক্রী আদালতের মাধ্যমে কার্যকরী করতে হয়। 
 
 
উপর্যুক্ত বিষয়টি বিবেচনা করে ডিক্রী জারী বইটি লেখা হয়েছে। আশা করি বইটি আইনজীবি এবং বিচারকগণের উপকারে আসবে।
 
ড. মোঃ শাহ্জাহান 
জেলা ও দায়রা জজ, নরসিংদী
জয়নাল আবেদীন 
যুগ্ম জেলা জজ, চট্টগ্রাম। 
 
 
 
 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

আইন ও বিচার বিভাগ

বিচার শাখা-৩।

 

 

স্মারক নং ঃ ৯১৩ বিচার-৩/২পি-১/২০০৯, তারিখ : ২১/১২/২০১১ 

 
 
 
 
 
 

সূচিপত্র

 
  • অধ্যায় - ১। সূচনা ১১
  • অধ্যায় - ২। ডিক্রীজারীর আদালতসমূহ ১৯
  • অধ্যায় - ৩। ডিক্রীর প্রকৃতি ২৪
  • অধ্যায় - ৪। ডিক্রী জারী ৫৩
  • অধ্যায় - ৫। জারী মোকদ্দমা স্থগিতকরণ ১০৮
  • অধ্যায় - ৬। জারী মোকদ্দমায় দায়িক বা তৃতীয় পক্ষের সুযোগ ১১১
  • অধ্যায় -৭। ডিক্রীর পূর্বাবস্থায় পূন:স্থাপন ১১৬
  • অধ্যায় - ৮। জামেনদারের দায়িত্ব কার্যকরকরণ ১১৭
  • অধ্যায়- ৯। অর্থঋণ জারী মামলা ১১৯
  • অধ্যায়- ১০। ফৌজদারী ক্রোক সংক্রান্ত আইন ১২৮
 
 
 

এক নজরে ডিক্রি জারীর বিধানাবলী

 
ডিক্রি জারীযোগ্য মামলায় ডিক্রি জারী করিতে ইচ্ছুক হইলে ডিক্রিদার মূল আদালতে  দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ২১ আদেশের ১১ নিয়মের বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ফরম নং ৪৭ এর চাপানো ফরমে আবেদন করিতে পারে।
 
সাধারণত দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তির ৩ বৎসরের মধ্যে ডিক্রিদারকে ডিক্রি জারী দরখাস্ত দাখিল করিতে হয়।
 
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের বিধান মোতাবেক মামলা নিষ্পত্তির ১ বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারীর দরখাস্ত দাখিল করিতে হয়।
 
ডিক্রির তারিখ হইতে তামাদির মেয়দের বাহিলে ১২ বৎসর এবং শেষ দরখাস্তে প্রদত্ত চূড়ান্ত আদেশের তারিখ হইতে ৩ বৎসরের মধ্যে প্রত্যেক অনুক্রমিক দরখাস্ত করিতে হয়। জারীর দরখাস্তে লিখিত বিবরণীর সহিত আদালতের বালাম যাচাই করিয়া সঠিক আছে বিনা দেখিতে হয়। যে কোন দেওয়ানী মামলা রায়ের ২ বৎসর পর জারীর দরখাস্ত দাখিল করিলে দায়িকের উপর ২১ আদেশের ২২ নিয়মের নোটিশ জারী করিতে হয়।
 
অগ্রক্রয় ও বায়নানামা মূলে কবলা রেজিষ্ট্রি করিয়া পাওয়ার জারী মামলায় দায়িকের উপর কবলার মুসাবিধাসহ দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ২১ আদেশের ৩৪ নিয়মের নোটিশ জারী করিতে হয়।
 
কবলার মুসাবিধা অনুমোদন হওয়ার পর রেজিষ্ট্রেশন আইনের বিদান মোতবেক নন- জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প তলব দেওয়া হয়। উক্ত ষ্ট্যাম্প দাখিলের পর কবলা প্রস্তুত হয় এবং আদালত কবলা সম্পাদন করিলে সাব - রেজিষ্ট্রি অফিসে কবলা রেজিষ্ট্রেশনের জন্য প্রেরণ করা হয়।
 
বন্টনের চূড়ান্ত ডিক্রির সাহাম প্রাপ্ত ভূমি পৃথক দখল পাওয়ার জন্য যেকোন পক্ষ ডিক্রি জারীর আবেদন করিতে পারে। সাহাম প্রাপ্ত ভুমি দখল পাওয়ার সময় ভুমি পরিমাপ করিয়া চিহ্নিত করিয়া দেওয়ার জন্য সার্ভে কমিশনার নিযুক্ত করিতে হয়। দখল পাওয়ার যে কোন জারী মামলায় দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ২১ আদেশের ৩৫ নিয়মের তলবনা দাখিল করেতে হয়। দখলী পরোয়ানার মাধ্যমে রীতিমত দখল কার্য সম্পন্ন হইলে জারী মামলা নিস্পত্তি করা যায়। 
 
টাকা আদায়ের জারীর আবেদনে অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের জন্য ২১ আদেশের ৩০ নিয়মের ক্রোকি পরোয়ানায় উল্লিখিত টারা নগদ প্রদান না করিলে অস্থার সম্পত্তি ক্রোক করা হয় এবং নিলাম বিক্রয় করিয়া অথবা দায়িককে দেওয়ানী কারাগারে আটক করিয়া টাকা আদায় করা হয়। অস্থাবর সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ে ডিক্রির টাকা মিটানো সম্ভব না হইলে স্থাবর সম্পত্তি।ক্রোর করতঃ নিলামে বিক্রয় করে ডিক্রিকৃত টাকা আদায় করা যায়।
 
প্রকৃতপক্ষে দায়িকের স্থাবর সম্পত্তি নির্মিত হওয়ার পর ক্রোক ও নিলামের আদেশ দেওয়া হয়। দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ২১ আদেশের ৫৪ নিয়মের বিধান মোতাবের দায়িকের উপর এবং ভূমির উপর পরোয়ানা জারী করিয়া স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়। তৎপর দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ২১ আদেশের ৬৬ নিয়মের নোটিশ এবং নিলাম ইস্তেহার জারী করিতে হয়। নিলাম ইস্তেহারের বিষয় স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করিতে হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পর স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অন্ততঃপক্ষে ৩০ দিন এবং অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫ দিন অপেক্ষার পর বিক্রয় অনুষ্ঠিত হইবে। তবে দায়িক অনুমতি প্রদান করিলে সময় গণনার প্রয়োজন নাই। 
 
অর্থঋণ মামলার জারীর ক্ষেত্রে নিন্মোক্ত বিধানাবলী  প্রেযোজ্য :
ধারা­ ২৮। জারীর জন্য মামলা দাখিলের সময়সীমা।
 
(১) The Limitation Act.1908 এবং The Code of Civil procedure,1908 এ ভিন্নতার যে বিধানই থাকুক না কেন, ডিক্রিদার, আদালতযোগে ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করিতে ইচ্ছা করিলে, ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হওয়ার অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসরের মধ্যে, ধারা ২৯ এর বিধান সাপেক্ষে জারীর জন্য আদালতে দরখাস্ত দাখিল করিয়া মামলা করিবে।¬ ৭(২) উপ্লধারা (১) এর বিধানের ব্যত্যয়ে, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের পরবর্তী ১ (এক) বৎসর অতিবাহিত হইবার পরে জারীর জন্য দায়েরকৃত কোন মামলা তামাদিতে বারিত হইবে এবং অনুরূপ তামাদিতে বারিত মামলা আদালত কার্যার্থে গ্রহণ না করিয়া সরাসরি খারিজ করিবে।৮
 
 
(৩) জারীর জন্য দ্বিতীয় বা পরবর্তী মামলা, প্রথম বা পূর্ববর্তী জারীর মামলা খারিজ বা নিষ্পত্তি হওয়ার পরবর্তী এক বৎসর সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে দাখিল করা হইলে, উক্ত মামলা তামাদিতে বারিত হইবে। এবং তামাদিতে বারিত অনুরূপ মামলা আদালত কার্যার্থে গ্রহণ না করিয়া সরাসরি খারিজ করিবে।
 
(৪) জারীর জন্য কোন নতুন মামলা প্রথম জারীর মামলা দাখিলের ৬ (ছয়) বৎসর সময় অতিবাহিত হইবার পরে দাখিল করা হইলে, উক্ত মামলা তামাদিতে বারিত হইবে, এবং তামাদিতে বারিত অনুরূপ মামলা আদালত কার্যালয়ে গ্রহণ না করিয়া সরাসরি খারিজ করিবে।
 
ধারা­ ২৯। সময়সীমা স¤পর্কিত বিশেষ বিধান।
 
আদালত, রায় প্রদানের সময় ডিক্রিকৃত টাকা এককালীন অথবা কিস্তিতে পরিশোধের জন্য কোন সময় সীমা নির্ধারণ করিয়া  থাকিলে, অনুরূপ সময়সীমা অতিক্রান্ত বা অকার্যকর হইবার পর হইতে ধারা ২৮(১)এ উল্লিখিত সময়সীমা কার্যকর হইবে।
 

Specifications

  • বইয়ের লেখক: ড. মো: শাহজাহান ও জয়নাল আবেদীন
  • আই.এস.বি.এন: ৯৮৪৭০২১৪০০৯৭৩
  • স্টকের অবস্থা: স্টক আছে
  • ছাড়কৃত মূল্য: ১৯০.০০ টাকা
  • বইয়ের মূল্য: ২৫০.০০ টাকা
  • সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ
  • পৃষ্ঠা: ১২৮
  • প্রকাশক: হাক্কানী পাবলিশার্স
  • মুদ্রণ / ছাপা: টেকনো বিডি ইন্টারন্যাশনাল
  • বাঁধাই: Hardback
  • বছর / সন: মার্চ ২০১৩

Share this Book

Sky Poker review bettingy.com/sky-poker read at bettingy.com