জীবন জগৎ সফলতা

জীবন জগৎ সফলতা 

ভূমিকা
 
লেখকের কথা
 
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে জীবন জগৎ সফলতা নামক গ্রন্থটি লেখা সম্ভব হয়েছে। এজন্য পরম করুণাময়ের শুকরিয়া আদায় করছি। অনন্তকালের কাছে মানুষের জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। মানুষ জন্মগ্রহণ করে কে কতদিন দুনিয়ায় থাকবে জানে না-কেউ অল্প বয়সে, কেউ বুড়ো হয়ে মারা যায়। জন্মের পর শিশু অবস্থায় এবং বেশি বুড়ো হয়ে গেলে মানুষ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়। মানুষ তার জন্মের জন্য দায়ী নয়, তবে কর্মের জন্য দায়ী। জন্মের পর তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, অবস্থান এবং কর্মের ওপর তার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য এবং ব্যর্থতা নির্ভর করে।
 
একজন মানুষ জীবনে সবকিছু করতে এবং সবকিছু হতেও পারবে না। এক একজন এক এক পেশায় যাবে। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আইনজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ শিক্ষক বা কেউ অন্য পেশায় যায়। তবে প্রত্যেকেই তার পেশায় সফল হতে চায়। সফল হতে হলে প্রয়োজনীয় নিয়ম জানলে সফল হওয়া সহজ হয়। নিয়ম না জানলে অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো অবস্থা হয়। সমস্ত বিশ্বব্রহ্মা-ের জীব-জন্তু-মানুষ সবকিছু এক নিয়মের মধ্যে চলছে। এই নিয়মের কোনো ব্যতিμম নেই। প্রত্যেক বস্তুতে, মানুষের প্রত্যেক কোষে চেতনা, শক্তি ও মমতা রয়েছে। প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আমাদের অজান্তে দিন-রাত সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে। অদৃশ্য অপার্থিব জগৎ থেকে দৃশ্য জগতের সৃষ্টি। দৃশ্য জগতের সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র অর্থাৎ বিশ্বব্রহ্মা-ের সবকিছুর উৎস আবার এক।
 
উৎস বা সোর্স থেকে শক্তি, মমতা ও চেতনা এবং শক্তি থেকে অণু-পরমাণু এবং পরে বস্তু Ñ বস্তু পরিবর্তন, বিবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত অস্তিত্বহীন (মৃত) হয়ে আবার উৎসের সাথে মিশে যায়। এই উৎসকে আল্লাহ বা ভগবান বা গড যে নামে ডাকা হোক তিনি এক এবং সর্বত্র বিরাজমান। সবকিছু তিনিই বেষ্টন করে আছেন। সবকিছু তাঁর মমতা ও রহমতের বলয়ে অবস্থিত। তাঁর বাইরে কিছুই নেই।
 
জ্ঞান-বিজ্ঞানে মানুষের আজকের এই অবস্থান একদিনে হয় নি। কত লোকের কত যুগের সাধনার ফল। মানুষ গুহার জীবন থেকে বেরিয়ে চাঁদে গিয়েছে এবং মহাকাশে বিভিনড়ব গবেষণা চালাচ্ছে। এই উনড়বতি অব্যাহত থাকবে।
 
মানুষ দেহ এবং আত্মার সমষ্টি। দেহ বস্তুজগতের ও আত্মার বাহন। আত্মা এমন সত্তা যা আল্লাহর আদেশ বা কাছ থেকে এসেছে আবার মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে ফিরে যায়। বিদ্যুতের মতো যখন বিদ্যুৎ বাল্বে প্রবাহিত হয় তখন আলো পাওয়া যায়। এ রকম আত্মার প্রভাবে মানুষের চিন্তা, চেতনা, কল্পনা, কর্মক্ষমতা চলে এবং মানুষ জীবিত থাকে। আত্মাবিহীন শরীর অসাড় এবং মৃত।
 
আত্মার চেতনা এবং শক্তির উৎস হলো বিশ্ব চেতনা, সর্বশক্তিমান আল্লাহ। আত্মা মস্তিষ্কের মাধ্যমে কম্পিউটারের মতো কাজ করে। চিন্তা, ইচ্ছা, কল্পনা, আবেগ, মমতা ও বিশ্বাসের সাথে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মনোছবি দেখলে কাজের পরিবেশ এবং কাজ শুরু হয় এবং কাজে সফলতা আসে। কাজের কোনো বিকল্প নেই। যে রকম বীজ বপন করা হবে, সে রকম ফল পাওয়া যাবে। যে রকম কাজ করবে; সে রকম ফল পাওয়া যাবে। ভাল কাজের ফল ভাল। মন্দ কাজের ফল মন্দ।
 
বর্তমান যুগে বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম যুক্তি ছাড়া কিছু সহজে বিশ্বাস করতে চায় না। এই জন্য জীবনে সফলতা পেতে হলে কী কী করা উচিত অর্থাৎ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্ম, ধ্যান এবং নৈতিকতা সম্বন্ধে সংক্ষেপে এই বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এইগুলি পড়ে চিন্তা এবং অনুশীলন করলে নিজেরই মঙ্গল হবে। প্রয়োজনে আরও বই; বিভিনড়ব ধর্ম সংμান্ত বই পড়লে ও চিন্তা করলে জ্ঞানের পরিধি আরও বাড়বে। যে কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা প্রমে অস্বচ্ছ থাকে তারপর আরও পড়াশোনা এবং চিন্তা করলে স্বচ্ছ হয়।
 
জন্মের সময় মানুষ জগৎ এবং জীবন সম্বন্ধে কিছুই জানে না-এরপর প্রকৃতি, পরিবেশ, পরিবার, সমাজ থেকে অনেক কিছু শিখে। এগুলি কোনো কোনো সময় সত্য নয় এবং কুসংস্কারপূর্ণ।
 
এরপর অনেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীল চিন্তা, নৈতিকতা, মানবিক গুণাবলী বিকাশের অনুপ্রেরণা এবং বিভিনড়ব ধর্মের মর্মকথা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক মৌলিক কথাগুলি থাকা উচিত। অনেকে ধর্মের মর্মকথা না জেনে ধর্ম সম্বন্ধে বিরূপ ধারণা এবং মন্তব্য করেন। সব ধর্ম মানুষের মঙ্গলের জন্য সত্য এক। এক জন খাঁটি ধার্মিক স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস এবং সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য কাজ করেন। কেউ কেউ নিজের স্বার্থের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করেন। নিজেকে এই সমস্ত ধর্ম ব্যবসায়ীর হাত থেকে বাঁচাতে হলে ধর্মের অন্তর্নিহিত মর্মকথা জানতে হবে। ধর্মের বিভিনড়ব আচার-আচরণের উদ্দেশ্য হলো আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা, সৎ চিন্তা এবং সৎ কর্ম করা। নিজের ধর্ম এবং অন্য ধর্ম সম্বন্ধে জানতে হবে এবং আলোচনা করতে হবে। এতে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। এই বইয়ে বিভিনড়ব ধর্মের ভালো কথাগুলি উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মে বিশ্বাস না করলেও একজন সৎ মানুষ বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা থেকে মানবিক গুণাবলীর বিকাশ, মানুষ এবং সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য কাজ করলে মনে প্রশান্তি থাকবে।
 
বর্তমান যুগে তথ্য প্রযুক্তির উনড়বতির ফলে আইটি, সিডি, ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়েছে। তবে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। যেমন-ধ্যান বা বিভিনড়ব relaxation (শিথিলায়ন) পদ্ধতি শুধু জানলে হবে না, নিজে অনুশীলন করলে ফল পাওয়া যাবে।
 
সমস্ত বিশ্ব বিজ্ঞানময়। সবকিছু নিয়মের মধ্যে চলে। এই নিয়ম ও রহস্য সৃষ্টির প্রম থেকেই আছে। প্রমে মানুষ এগুলি জানত না। বৈজ্ঞানিকরা গবেষণা করে সৃষ্টির বিভিনড়ব রহস্য ধীরে ধীরে আবিষ্কার করেছেন। এগুলি মানুষের জাগতিক উনড়বতির জন্য অবদান রাখছে। ধর্ম মানুষের আত্মিক উনড়বতির জন্য। বিজ্ঞান এবং ধর্মে কোনো বিরোধ নেই। এই দুইয়ের মানুষের প্রয়োজন আছে।
 
আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে এবং অনেকের সহায়তায় বিশেষ করে আমার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনির উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় এবং মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান ও শাহজাদী সুলতানা (ডলি)-র সহায়তায় এই বইটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। আমার মেয়ে প্রফেসর ফজিলা-তুন- নেসা মালিকের কথা উল্লেখ বিশেষ করে করতে চাই; মেডিটেশনের অধ্যায়টি সে সম্পাদন করে দিয়েছে। আমার জামাতা অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বইটি প্রকাশনার ব্যাপারে সহায়তা দিয়েছে। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কোনো ভুল-ভ্রান্তি বা পরামর্শ থাকলে জানালে উপকৃত হব এবং সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরম করুণাময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই সামান্য প্রয়াস, কোনো ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে কবুল করেন। তিনি যেন তাঁর অপার করুণায় বিশ্বময় সব মানুষের সুমতি দেন। যাতে তাদের মানবিক গুণাবলী বিকশিত হয় এবং বিশ্বায়নের যুগে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানব দরদী আলোকিত মানুষ হয়ে সব মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
 
সবশেষে একটা কথা উল্লেখ করতে চাই। পরিবারের সবার মত নিয়ে এই বইয়ের স্বত্ব “অনুল মালিক ট্রাস্টে” দান করা হয়েছে। বিμয়লদ্ধ সমুদয় অর্থ অনুল মালিক ট্রাস্ট ফান্ডে জমা হবে; যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উনড়বয়ন কর্মকা-ে ব্যয় হবে।
 
জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.)
আব্দুল মালিক
ঠিকানা : ৯৯ শ্যামলী, রোড-২
শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭।
তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
 
 
       সূ । চি । প । ত্র
  • মানুষ ১৩
  • শিক্ষা ১৯
  • স্বাস্থ্য ২২
  • বিজ্ঞান ২৫
  • মেডিটেশন বা ধ্যান ৩১
  • ভাগ্য ৩৪
  • সফলতা ৩৬
  • ধর্ম ৫০
  • হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ৬০
  • নামাজ ৬৫
  • রোজা ৬৭
  • হজ্জ ৬৭
  • যাকাত ৬৮
  • সৎকর্ম ৬৮
  • জিহাদ ৭০
  • বিদায়ী হজ্জ ৭০
  • হাদীস ৭৩
  • মানুষের অধিকার ৭৪
  • প্রতিবেশীর অধিকার ৭৪
  • নারীদের অধিকার ৭৫
  • অধীনস্থদের অধিকার ৭৫
  • শ্রমিকের অধিকার ৭৫
  • প্রাণীদের অধিকার ৭৬
  • বিশুদ্ধ নিয়ত ৭৭
  • সৎ ব্যবসায়ী ৭৭
  • ইবাদত ৭৯
  • দান সদকা ৮১
  • গরীব-মিসকিনের অধিকার ৮২
  • উত্তম চরিত্র ৮৩
  • জ্ঞান অর্জন ৮৪
  • দায়িত্ব পালন সম্পর্কে ৮৫
  • সত্যের ডাক ৮৬
  • কবিরা গুনাহ ৮৬
  • সেবা ৮৬
  • সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য বিভিনড়ব ধর্মের
  • ধর্মগ্রন্থের শাশ্বত চিরন্তন সত্য কিছু বাণী
  • পবিত্র কোরআন ৮৭
  • আল্লাহর পরিচয় ৮৭
  • সৎকর্ম ৯০
  • রসূল (সাঃ) -এর আনুগত্য ৯৩
  • নামাজ-রোজা ৯৩
  • প্রার্থনা ৯৪
  • পবিত্র কোরআনের পরিচয় ও গুরুত্ব ৯৭
  • ন্যায়বিচার ৯৭
  • কোরআনের মর্মবাণী ৯৮
  • পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার ১০০
  • ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না ১০০
  • দান সদকা ১০১
  • আল্লাহর বন্ধুদের সুসংবাদ ১০২
  • নারী অধিকার ১০৩
  • বাইবেল ১০৪
  • বেদ ১০৭
  • ধম্মপদ ১১০
  • পরিশিষ্ট ১১৩
 

Specifications

  • বইয়ের লেখক: জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক
  • আই.এস.বি.এন: ৯৮৪৭০২১৪০১০২৬
  • স্টকের অবস্থা: স্টক আছে
  • ছাড়কৃত মূল্য: ১৫০.০০ টাকা
  • বইয়ের মূল্য: ২০০.০০ টাকা
  • সংস্করণ: দ্বিতীয় প্রকাশ
  • পৃষ্ঠা: ১১৩
  • প্রকাশক: হাক্কানী পাবলিশার্স
  • মুদ্রণ / ছাপা: টেকনো বিডি ইন্টারন্যাশনাল
  • বাঁধাই: Hardback
  • বছর / সন: ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
  • ওজন: 1.3 kg

Share this Book

Sky Poker review bettingy.com/sky-poker read at bettingy.com